shaheen education family

একজন আদর্শ অভিভাবকের করণীয়

শাহীন শিক্ষা পরিবারের সম্মাননীয় চেয়ারম্যান স্যারের পরামর্শ হিসাবে অভিভাবকের করণীয় ৫টি কাজ

সম্মানিত অভিভাবক, আসসালামু আলাইকুম। আপনার সন্তানকে শাহীন শিক্ষা পরিবারে তথা-(শাহীন স্কুল এন্ড ক্যাডেট কোচিং) ভর্তি করানোর জন্য অভিনন্দন। সর্বদাই আপনাদের বলে থাকি একজন শিক্ষার্থীর অগ্রগামীতার জন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতার আলোকে সার্বিক ব্যবস্থাপনার দিকটি পর্যবেক্ষণতার আলোকে বাস্তবায়ন করা (যেটি আমি করার জন্য প্রতিশ্রুতি বা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, ইনশাআল্লাহ, দোয়া চাই)। শিক্ষক মণ্ডলীর দায়িত্বশীল ভূমিকা ও আন্তরিকতার সাথে যথোপযুক্ত পাঠদান কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা। সেটি যেন শিক্ষকরা বাস্তবায়নে চেষ্টা ও আন্তরিকতার ঘাটতি না করেন, তার জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে যাচ্ছি, ইনশাআল্লাহ। অতঃপর আপনার সন্তানের জ্ঞান অর্জন তথা সর্বোচ্চ সফলতা অর্জনের লক্ষ্যে আমার যেমন দায়িত্ব রয়েছে, তেমনিভাবে আপনারও বেশ কিছু আবশ্যিক করণীয় রয়েছে। অভিভাবক হিসাবে আপনার করণীয়গুলো নিচে উল্লেখ করলাম। আশা রাখি নিম্নোক্ত কাজগুলি যথাযথভাবে করতে পারলে আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে আপনার সন্তানের সাফল্য আসবে, আসবেই ইনশাআল্লাহ।

করণীয় ৫টি কাজসমূহঃ
১। আপনার সন্তানকে নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত হওয়ার নিশ্চয়ন করা।

২। আপনার সন্তানের সাথে প্রতিদিন কমপক্ষে ১ ঘণ্টা সময় ব্যয় করা। উক্ত সময় আপনার কাজসমূহঃ
ক) আন্তরিকতা তৈরিকরণ, অর্থাৎ বন্ধুর মত সম্পর্ক তৈরি করা, যাতে করে আপনার সন্তান নিঃসংকোচে তার মনের অনুভূতিগুলি আপনার সাথে শেয়ার করতে পারে।
খ) শিক্ষার্থী ক্লাসে যে ভুলগুলো করবে, সেগুলো বাসায় যাওয়ার পর তাকে মুখস্থ করানোর পর ভুল সংশোধন নামে একটি খাতা তৈরি করে সেখানে সংশোধন করে লেখানোর ব্যবস্থা করা। অতঃপর অভিভাবক সবুজ কালির কলম দিয়ে সেই লেখাগুলো নিরীক্ষা করে স্বাক্ষর করা।
গ) শিক্ষার্থী বাড়ির কাজ কালো কালির কলম দিয়ে লিখবে। অভিভাবক হিসাবে আপনি সবুজ কালি কলম দিয়ে নিরীক্ষণ করা। অতঃপর শিক্ষক পর্যবেক্ষণ করবেন বাড়ির কাজের সবগুলো বিষয়ে, তথা লিখেছে কিনা তা তদারকি করা এবং লাল কালি কলম দিয়ে সেটা Seen লিখে দেবেন।

৩। ১৫ দিনের মধ্যে শিক্ষককে ফোন (ক্লাস টাইম ব্যতীত) করে প্রতিটি বিষয়ের খোঁজখবর নেওয়া এবং শিক্ষকের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা। সেই সাথে অভিভাবকের কোনো পরামর্শ থাকলে শিক্ষককে জানানো। সর্বোপরি মাসে একবার স্বশরীরে হাজির হয়ে শিক্ষার্থীর উন্নতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া ও পরামর্শ করা। সার্বিক পরামর্শগুলো একটি ডায়েরি অথবা খাতায় লিখিত রেখে শিক্ষার্থীকে অগ্রগামী করার চেষ্টা করা এবং খাতায় শিক্ষক ও অভিভাবকের স্বাক্ষর করা।

৪। অভিভাবক হিসাবে উৎসাহমূলক পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে নিজ নম্বরের সাথে শিক্ষার্থীকে প্রতিযোগিতা করানোর ব্যবস্থা করা। বিষয়টি বুঝতে না পারলে শিক্ষকের সাথে কথা বলে ভালো করে বুঝে নেওয়া।

৫। পরিশেষে মুসলমান ভাই ও বোন ফরজ নামাজের পর সন্তানের মেধাশক্তি বৃদ্ধি, পড়ালেখায় মনোযোগী হওয়া ও সাফল্যের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা। আর অন্যান্য ধর্মাবলম্বীগণ নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করা।

আশা করি উপর্যুক্ত কাজগুলি সঠিকভাবে করতে পারলে আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে আপনার সন্তান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে দক্ষতা অর্জন করতে পারবে, অর্থাৎ জ্ঞান অর্জন করে আত্মবিশ্বাসী হিসেবে নিজেকে আত্মপ্রকাশ করাতে সক্ষম হবে, ইনশাআল্লাহ, এবং সাফল্য লাভ করবেই, ইনশাআল্লাহ।

ধন্যবাদান্তে ও দোয়াপ্রার্থী
মুহাম্মদ মাছুদুল আমীন শাহীন
চেয়ারম্যান, শাহীন শিক্ষা পরিবার, টাঙ্গাইল।

Share the Post:
Scroll to Top